আগামীকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সাম্প্রতিক সংকট কাটিয়ে সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিজিএমইএ, মেট্রো চেম্বার, আইসিসিবি, ঢাকা চেম্বার, বিটিএমএ, বিকেএমইএসহ ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ফজলুল হক বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সাম্প্রতিক সংকট কাটিয়ে শিল্পকারখানায় সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামীকাল রাত থেকেই আমাদের নতুন করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর আগের যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, গ্যাস-বিদ্যুতের ওই অবস্থায় ফিরে যেতে পারব। এটা আজ অনুষ্ঠিত বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।’

‘আগের অবস্থা’ বলতে কোন সময়ের পরিস্থিতি বোঝানো হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফজলুল হক বলেন, আগস্ট মাসে সংকট ঘনীভূত হওয়ার আগের পরিস্থিতির কথা বোঝানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষই জ্বালানি সংকটে কমবেশি ভুগছেন। প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল রাত থেকেই গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

দীর্ঘবৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছেমেয়াদি পরিকল্পনা

বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ।

মাহদী আমিন জানান, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি টার্মিনাল নির্মাণসহ দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তবে গত ১৬ বছরে জমে থাকা সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কয়লা থেকে সমন্বিত উৎপাদনমুখী ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি সৌরশক্তিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, সামনে দেশের বিদ্যুৎ খাত আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং জ্বালানি সম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাবে সরকার।

শিল্পে স্বস্তির প্রত্যাশা

ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সরকারের এ বৈঠকে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে তৈরি হওয়া চাপ নিয়ে আলোচনা হয়।

আগস্টের পর থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কমে এলে শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে চলমান সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।